জনপ্রিয় তুর্কী প্রেসিডেন্ট আদনান মেন্ডেরেসকে ফাঁসি দেওয়ার আগের মুহূর্ত। ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তিনি তুরস্কের ক্ষমতায় ছিলেন। তার ক্ষমতায় থাকার পূর্বের সরকার সেকুলারের নামে প্রকাশ্য আযান দেওয়া,মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া,পর্দা তুলে দেওয়া সহ নানান অনৈসলামিক আইন করেছিল।
আদনান মেন্ডেরেস ক্ষমতায় এসে প্রকাশ্য আযান দেওয়ার প্রথা আবার তুরস্কে চালু করেন, প্রকাশ্য নামায ও জুম্মার নামায আদায়, বন্ধ হয়ে যাওয়া মাদ্রাসা পুনরায় রাষ্ট্রীয় খরচে চালু করেন। হজ্জের জন্য করা বাড়তি ট্যাক্স তুলে নিয়ে সেখানে ভর্তুকি দেন। ফলে হাজার হাজার আলেম তৈরি হয় তুরস্কে যা এখনো বিদ্যমান তার চালু করা আযান আজকেও বন্ধ হয়নি।
কিন্ত এক সেনা বিদ্রোহে তিনি ১৯৬১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন ফলে তৎকালীন সেকুলার নামধারী সরকার আগের আইন ভঙ্গ করে আযান,পর্দা ও মাদ্রাসা চালু করার অপরাধে সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে বলে তাকে ফাঁসির বায় দেয় ও কার্যকর করে ১৯৬১ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ১৯৬১ সালে।
তার এই ভুমিকার কারণে আদনান মেন্ডেরেসকে বিশ্বব্যাপী আলেমরা তাকে শহীদ হিসাবে আখ্যায়িত করে।
বলে রাখা ভাল আদনান মেন্ডেরেস নিজে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী হাতে নিয়ে ছিল পরীক্ষা চালিয়েছিল হাজার কিলোমিটার রেঞ্জের ক্ষেপণাস্ত্রের, পারমাণবিক চুল্লির এমন পর্যায়ে ছিল যা কিছুদিনের মাঝেই পরীক্ষা করা হতো। কিন্ত সেকুলার সরকার ক্ষমতায় এসে শান্তির কথা বলে তুরস্কের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ধ্বংস করে দেয়। আদনান মেন্ডেরেসডের মতন নেতা ক্ষমতায় থাকলে তুরস্ক আজ বিশ্ব পরাশক্তি থাকতো।
(WMNB)
সোমবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৯
জনপ্রিয় তুর্কী প্রেসিডেন্ট আদনান মেন্ডেরেসকে ফাঁসি দেওয়ার আগের মুহূর্ত।
আব্বাসি খলিফা মুতাসিম বিল্লাহ'র শাসন আমল
আব্বাসি খলিফা মুতাসিম বিল্লাহ'র শাসন আমল....
একজন মুসলিম রমনী কাফিরদের হাতে বন্দী হল এবং এক কাফির ব্যক্তি এই নারী বন্দিনীকে থাপ্পড় মারল ! মুসলিম রমনী ক্ষোভে-অপমানে চিৎকার করে বলতে লাগল, খলিফা মুতাসিম… তুমি কোথায় ? খলিফা মুতাসিম… তুমি কোথায় ?
তার এই কথা শুনে কাফির ব্যক্তিটি অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল।সে ব্যঙ্গ করে বলল, অবশ্যই তোমার মুতাসিম সাদা-কালো ঘোড়া নিয়ে তোমাকে উদ্ধার করতে আসবে !
এই খবরটি মুসলিম জাহানের খলিফা মুতাসিম বিল্লাহ'র কানে পৌঁছে গেল।তিনি সতের হাজার সাদা-কালো ঘোড়া সংগ্রহ করলেন এবং অভিযানে নেতৃত্ব দিলেন স্বয়ং নিজে।মুতাসিমের ফৌজ তুফান বেগে ছুটে চলল,তীব্র আঘাতে কাফির বাহিনী সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
ঘটনাক্রমে জীবিত থাকা বন্দী কাফের সৈন্যদের মধ্যে উপহাসকারীও ছিল,তাকে খলিফার সামনে আনা হল।ঐ নির্যাতিতা মুসলিম রমনীকেও আনা হয়।খলিফা মুতাসিম বিল্লাহ মুসলিম রমনীকে বললেন, ঐ ব্যক্তিকে বল,মুতাসিম এসেছে এবং সাদা আর কালো ঘোড়া নিয়েই তোমাকে উদ্ধার করতে এসেছে। (আল বিদায়া ওয়া আন নিহায়া)
আজ কি খলিফা মুতাসিমের মতো একজনও শাসক নেই? সারা বিশ্ব যখন তথাকথিত নারী দিবস পালনে ব্যস্ত তখন নপুংশক ইসরাইলি আর্মির হাতে আমার ফিলিস্তিনি বোনরা লাঞ্ছিত হচ্ছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যদি মুসলিমরা পরাজিত না হয়ে যদি জয়ী হত, তবে পৃথিবীর ইতিহাস কিভাবে লেখা হত?
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যদি মুসলিমরা পরাজিত না হয়ে যদি জয়ী হত, তবে পৃথিবীর ইতিহাস কিভাবে লেখা হত?
সারা বিশ্বের অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ হত আরবি।
আজ আমরা টাকা খরচ করে আইএল,টি,এস কোচিং করার বদলে আরবি শেখার জন্য হুজুরদের কাছে হুমরি খেয়ে পড়তাম। আপনার ড্রিমল্যান্ড কখনই আমেরিকা কিংবা ইউরোপ হত না, আপনার ড্রিমল্যান্ড ইস্তাম্বুল, আঙকারা, বাগদাদ, জেরুজালেম, মক্কা, মদিনা।
১ কোটি ৩৪ লক্ষ বর্গ মাইল ব্যাপী (পৃথীবির অর্ধেক) মানচিত্রটি হত আপনার দেশ, যার কোন বর্ডার থাকত না। এর ফলে আজকের উপমহাদেশ এবং আরবের কোন স্থানে যেতে আপনার ভিসা লাগত না,
কারন পুরোটাই তখন আপনার দেশ।
আপনি নিজেকে (অঞ্চলগতভাবে) হিন্দুস্তানি হিসেবে পরিচয় দিতেন, এবং মুসলিম হিসেবে গর্ববোধ করতেন, এর বাইরে আপনার আর কোন জাতীয়তা থাকত না।
হরতালে রাস্তায় গাড়ি পোড়ানোর দেখার দুর্ভাগ্য আপনার হত না।হরতাল কি অজানায় থেকে যেত।
কোটাসংস্কার কিংবা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের জন্যে আপনাকে আপনার সন্তানকে রাস্তায় নেমে মিছিল করতে হতো না।
টাকার অভাবে আপনার বিয়ে থেমে থাকত না,
আপনি অবশ্যই বেকার থাকতেন না কর্মজিবী থাকতেন। মিশরী ইরাকি,সৌদি,তুরকি যেখানকার খুশি সেখানের মেয়ে আপনি বিয়ে করতে পারতেন।
আজকের সমগ্র আরবের তেল বেচা টাকা প্রতিটি মুসলিমের পেটে যেত। সেই হিসেবে তেলের ভাগ আপনিও পেতেন।
প্রতি ১০০ টাকার পন্যে আপনার কাছ থেকে ১৫ টাকা ভ্যাট আদায় করে নেয়া হত না। বছরে একবার যাকাত আদায় করা হত, এটাই হত আপনার একমাত্র কর।
সাকিব তামিমরা মাশরাফিরা কখনই আপনার ড্রিমবয় হতো না, আপনার ড্রিমবয় হতো সালাউদ্দিন আয়ুবী,তারিক বিন জিয়াদ,মুহাম্মাদ বিন কাশিমেরা।
আল্লাহ ও তার নবীকে নিয়ে কটূক্তি করার দুঃসাহস পৃথিবীর কোন কুলাঙ্গার নাস্তিক দেখাতে পারতো না।
আসলে একটি যুদ্ধই সমস্ত বাস্তবতা বদলে দেয়,
উপরে যা বললাম তার এক আনাও কল্পনা নয়।
আজ থেকে ৯১ বছর আগেও এটাই বাস্তবতা ছিল।একটি যুদ্ধ সমস্ত বাস্তবতা বদলে দিয়েছে,জন্ম দিয়েছে একটি দেশ ভেঙ্গে ৫৭ টি দেশের,৫৭ টি পৃথক জাতীয়তাবাদের। তাই আজ ৫৭ দেশের মুসলিমের চিন্তা চেতনা আজ ৫৭ রকম।
এই সমাজের মুখস্ত করা বুলি শিখে নিজের ইতিহাস আর ঐতিহ্য ভুলে যাবেন না। ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের এক টুকরা কারাগার নিয়ে গর্ববোধ করবেন না।
এই পুরো পৃথীবিটাকে ডোমিনেট করার জন্য আল্লাহ আপনাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, কারন আপনি মুসলিম।
স্বরণ রাখা চাই,এই যুদ্ধই শেষ যুদ্ধ নয়,যুদ্ধ কেবল শুরু। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মুসলিম নামধারী নাস্তিক কূলাঙ্গার মোস্তাফা আতাতুর্ক কামাল পাশা আর মিরজাফরদের হাত ধড়ে মুসিলিম সাম্রাজ্যের পরাজয় ঘটেছে।,
মুসলিমদের আদর্শের পরাজয় ঘটেনি। এই আদর্শের বলে বলিয়ান হয়ে মুসলিমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়ী হবে ইনশাল্লাহ।
আগামীর পৃথিবী আমাদের। এই বিজয়ের সুসংবাদ আল্লাহ আমাদের কুরআনের বহু আয়াত, বহু হাদিসে দিয়েছেন।
আমার বাহিনীই (সবশেষে) বিজয়ী হবে”।
[ সূরা আস-সাফফাত, ৩৭ : ১৭৩ ]
(নেট অবলম্বনে)
রুটি, মদ ফুুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ গোলাটে হয়ে আসবে,
রুটি, মদ ফুুরিয়ে যাবে,
প্রিয়ার কালো চোখ গোলাটে হয়ে
আসবে, কিন্তু বই অনন্ত যৌবনা,
যদি তেমন বই হয়।
..... ওমর খৈয়াম.....
বিস্ময়কর মুজিজা মিরাজ
মানুষের হিদায়াতের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নবী-রাসুলদের পাঠিয়েছেন। মানুষ যেন নবী–রাসুলদের আলাদাভাবে চিনতে পারে, এ জন্য তাঁদের মাধ্যমে বিশেষ অলৌকিক কিছু কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে দেখিয়েছেন। নবী–রাসুলদের মাধ্যমে এসব অতিপ্রাকৃতিক ঘটনাবলিকে মুজিজা বলা হয়। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর বহু মুজিজা ছিল। মিরাজ রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর অন্যতম সেরা মুজিজা। অন্য কোনো নবী ও রাসুলের মিরাজ হয়নি। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)।
মিরাজ শব্দের আভিধানিক অর্থ ঊর্ধ্বগমন। ইসলামি পরিভাষায় মিরাজ হলো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সশরীরে স্বজ্ঞানে জাগ্রত অবস্থায় হজরত জিবরাইল (আ.) ও হজরত মিকাইল (আ.)–এর সঙ্গে বুরাক বাহনের মাধ্যমে মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা হয়ে, প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুন্তাহা পর্যন্ত গমনান্তে সেখান থেকে একাকী রফরফ বাহনে আরশে আজিম পর্যন্ত ভ্রমণ; মহান রাব্বুল আলামিনের দিদার লাভ ও কথোপকথন এবং জান্নাত–জাহান্নাম পরিদর্শন করে ফিরে আসা। মিরাজের প্রথম অংশ তথা বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত ভ্রমণ হলো ইসরা। ইসরা অর্থ রাত্রিকালীন ভ্রমণ। যেহেতু নবী করিম (সা.)–এর মিরাজ রাত্রিকালেই হয়েছিল, তাই এটিকে ইসরা বলা হয়। মিরাজ রজনীকে আরবিতে ‘লাইলাতুল মিরাজ’ এবং ‘লাইলাতুল ইসরা’ বলা হয়; যা এতদঞ্চলে ‘শবে মিরাজ’ নামে পরিচিত। কালের সাক্ষী এই ঐতিহাসিক রাতটি ইবাদতের মাধ্যমে বিশেষভাবে উদ্যাপন করা হয়।
কোরআনুল কারিমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন, ‘তিনি পবিত্র (আল্লাহ) যিনি তাঁর বান্দাকে “ইসরা” বা রাত্রিকালীন ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি। যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। নিশ্চয় তিনিই সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা-১৭ ইসরা, আয়াত: ১)।
প্রিয় নবীজি (সা.)–এর নবুয়তের এগারোতম বছরে সাতাশ রজব মিরাজ সংঘটিত হয়। তখন নবীজি (সা.)–এর বয়স একান্ন বছর। মিরাজের তারিখ নিয়ে বর্ণনার বিভিন্নতা আছে। মিরাজের বিবরণ পবিত্র কোরআনের তিপ্পান্ন নম্বর সুরা—সুরা নাজমে ও সতেরো নম্বর সুরা—সুরা বনি ইসরাইলে বিবৃত হয়েছে, মিরাজের ঘটনা দিয়ে শুরু হওয়ায় এই সুরার আরেক নাম হলো সুরা ‘ইসরা’। হাদিস শরিফেও বুখারি শরিফ ও মুসলিম শরিফসহ সিহাহ সিত্তার সব কিতাবে এবং অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে এই ইসরা ও মিরাজের বিষয়টি সবিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। মিরাজের প্রেক্ষাপট হিসেবে বলা হয়েছে: এ বছর নবীজি (সা.)–এর চাচা আবু তালেব ও স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.) অল্প দিনের ব্যবধানে ইন্তেকাল করেন। এ বছরকে নবীজি (সা.)–এর জীবনে ‘আমুল হুজন’ বা দুঃখের বছর বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর দুঃখ নিবারণ ও দাওয়াতি কাজে উদ্বুদ্ধকরণ নিমিত্তে আল্লাহ তাঁর প্রিয়তম বান্দাকে মিরাজ দ্বারা সম্মানিত করেন।
মসজিদে আকসায় সব নবী ও রাসুলের জামাতে নবীজি (সা.) ইমামতি করেন। মিরাজের সফরে আমাদের নবীজি (সা.)–এর সঙ্গে বিভিন্ন নবী–রাসুলের বিশেষ সাক্ষাৎ হয়। প্রথম আসমানে হজরত আদম (আ.), দ্বিতীয় আসমানে হজরত ইয়াহইয়া (আ.) ও হজরত ঈসা (আ.), তৃতীয় আসমানে হজরত ইউসুফ (আ.), চতুর্থ আসমানে হজরত ইদ্রিস (আ.), পঞ্চম আসমানে হজরত হারুন (আ.), ষষ্ঠ আসমানে হজরত মুসা (আ.), সপ্তম আসমানে হজরত ইবরাহিম (আ.)–এর সঙ্গে সালাম ও কুশল বিনিময় হয়। তিনি ফেরেশতাদের কিবলা বাইতুল মামুর গেলেন, অতঃপর সিদরাতুল মুন্তাহার নিকটে যান। (বুখারি শরিফ, খণ্ড: ১, হাদিস সংখ্যা: ৩৬৭৪, পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৫৪৮-৫৫০)।
মিরাজ রজনীতে এই বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষিত হয়, ‘আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করা যাবে না, পিতা–মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে হবে, নিকট আত্মীয়স্বজনের অধিকার দিতে হবে; মিসকিনদের ও পথশিশুদের অধিকার দিতে হবে; অপচয় করা যাবে না, অপচয়কারী শয়তানের ভাই, কার্পণ্য করা যাবে না, সন্তান হত্যা করা যাবে না, ব্যভিচারের নিকটেও যাওয়া যাবে না, মানব হত্যা করা যাবে না, এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা যাবে না, প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে, মাপে পূর্ণ দিতে হবে, অজ্ঞতার সঙ্গে কোনো কিছু করা যাবে না, পৃথিবীতে গর্বের সঙ্গে চলা যাবে না।’ (সুরা-১৭ ইসরা, আয়াত: ২২-৪৪)।
ইমানের পরই প্রধান ইবাদত নামাজ, যা মিরাজেই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রিয় নবীজি (স.)–এর উম্মতের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। যা কিয়ামত পর্যন্ত সব বিশ্বাসী মুমিন ও অনুগত মুসলমানের জন্য মিরাজ হিসেবে গণ্য। তাশাহহুদ মিরাজ সংলাপের অংশবিশেষ নামাজে ওয়াজিব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক
বাঙালি হিন্দুরা হল পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্বভাবের, স্বার্থপর আর দেশপ্রেমিকহীন
তারা বাংলার জন্ম থেকেই এ দেশকে নিজের ভাবতে পারে না বা ভাবে না।
তারা মনে করে ভারত তাদের জন্ম ভুমি আর সেখানে যে কোন ভাবেই হোক যেতে পারলেই পুর্ণ লাভ করা যাবে। এজন্য বাংলার বেশির ভাগ হিন্দু ই তাদের সম্পদ আর টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার করে আর সুযোগ বুঝে দেশ ছাড়ে।
এতে ক্ষতি বাংলায় ই হয় কারন এদেশে বড় হয়ে এদেশের আয় সব ভারতে পাঠিয়ে বাংলাদেশ এখন ভারতের ২ বা ৩ নাম্বার রেমিট্যান্স দেশ। তাহলে বুঝুন কি পরিমান অর্থ এদেশের হিন্দু বেইমানগুলো ভারতে পাঠায়। এদের এ-ই দেশে গরুর মুত্র আর হাগু খেতে দিলেও তারা মনে করবে এ-ই দেশ তাদের না।কিন্তু ভারতের একটি মুসলিম কি এদেশে আসে বা অর্থ পাঠায় তাদের হাজার নির্যাতন বা হত্যার পরেও? উত্তরে... না। কারন তারা বাংলার হিন্দুদের মত নিকৃষ্ট মনের না, তারা দেশপ্রেমিক,দেশকে ভালবাসে।
সূত্র
ফেইসবুক থেকে সংগীত।
যারা ছাত্র অবস্থায় বিয়ে করতে চায়, তাদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে
অনেক ছেলেই' আছে যারা 'শুধু প্রেমভালবাসার টানে নয় বরং ফিতনা এড়াতে কিংবা চরিত্র রক্ষার্থে ছাত্রবস্থায় বিয়ে করতে চান কিন্তু পরিবার সম্মত হয় না।
.
প্রথমত আমাদের সমাজে ছাত্রবস্থায় বিয়ে করতে চাওয়া টা বিরাট অপরাধ ধরা হয়। এই অসুস্থ্'য সমাজে' পাত্রীর' অভিভাবক স্বাভাবিক ভাবে কখনই একজন ছাত্র জামাই মেনে নিতে চান না, পাত্রীর অভিভাবক তো অনেক'' পরে, স্বয়ং পাত্রের ''অভিভাবকই ছাত্রবস্থায় ছেলেকে বিয়ে দিতে কোনভাবেই পছন্দ করেন না।
.
আফসোসের বিষয়, যেসব অভিভাবকের দ্বীনের বুঝ আছে, তারা সব জানে বুঝে তবুও এই এক জায়গায় আপত্তি — ছেলেকে ছাত্রাবস্থায় বা চাকরি পাবার আর্লি স্টেজে বিয়ে দিবেন না। এই পোস্টে কেবল ছেলের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে একজন সন্তান হয়েই, অন্যান্য সন্তানদের পক্ষ থেকে ছোট মুখে বড় কিছু কথা বলার আছে।
.
কারন অভিভাবক সাহায্য করলে বিষয়টা অনেক সহজ হয়ে যায়। আপনারাও পড়াশোনা করেছেন, আমাদের বয়স পার করে এসেছেন, দুনিয়াকে আমাদের থেকে বেশী দেখে এসেছেন আমরা স্বীকার করি এবং আপনাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করি।
এতে কোন সন্দেহ নাই আপনারা সন্তানের জন্য সব থেকে বেস্ট টা চান, সন্তানের ভালোর জন্য নিজেদের জীবনও উতসর্গ করতে পারেন।
.
কিন্তু এখনকার দুনিয়া আমরা যেভাবে দেখছি আপনাদের তা কল্পনারও বাইরে। এখন আমরা রাস্তায় বের হলেই ফিতনা, ভার্সিটি তে গেলে ফিতনা, ইন্টারনেটে ঢুকলে ফিতনা, ফেসবুকে ঢুকলে ফিতনা। এই অপরাধ গুলো করলে, কেউ সাক্ষী থাকবেনা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া, তাই আল্লাহ এর ভয় না থাকলে এই ফিতনা গুলো এড়িয়ে চলা কঠিন না, জাস্ট অসম্ভব।
.
দৃষ্টি সংযত কতদিকে করব? ডান দিকের ফিতনা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে বাম দিকে চোখ ঘুরালে বামদিকেও ফিতনা। জৈবিক চাহিদার ব্যাপারটা তো আছেই, এটা লজ্জার কিছু না স্বয়ং আল্লাহ তায়ালারই তা সৃষ্টি, কিন্তু মানসিক চাহিদা ও আধ্যাত্মিক চাহিদার ব্যাপার গুলোও ব্যাপক। বিপরীত লিংগের প্রতি মানুষের আকর্ষন স্বভাবজাত, মূলত জন্মজাত। একটা ছেলে তার যাবতীয় কথা কিন্তু অপর একটা ছেলের থেকে একটা মেয়েকে শেয়ার করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এবং এটা স্বাভাবিক, বৈজ্ঞানিক ভাবেও স্বীকৃত, হরমনাল ব্যাপার।
.
আপনার ছেলে ভার্সিটিতে, রাস্তাঘাটে যথাসাধ্য দৃষ্টিসংযত রাখছে, ইন্টারনেটে ঢুকার সময় 'আউজুবিল্লাহি মিনাশ..' — পড়ে ঢুকছে, আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে এত ভদ্র জীবন যাপন করছে, তাকে কী বিয়ের ব্যাপারে সহযোগিতা করে পথ সহজ করে দেওয়া আপনাদের উচিত নয়? অনেক সময় যে বিয়ের প্রয়োজন বোধ করলেও বলতে লজ্জা বোধ করে, আপনাদেরই উচিত তাকে জিজ্ঞাসা করে ব্যাপারটায় সহজ করে দেওয়া, তা না করলে অন্তত সে নিজে থেকে বলার পর সহজ করে দিন।
.
যে ব্যাক্তি চরিত্র রক্ষার্থে বিয়ে করতে চান, স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তাকে রিজিক সহ যাবতীয় ব্যাপারে সাহায্য করার ওয়াদা দিচ্ছেন, তাহলে অভিভাবক হয়ে কেন সাহায্যের ওয়াদা দিতে পারেন না? আল্লাহ তায়ালা র ওয়াদা কি যথেষ্ট নয়? আপনি বলতে চাচ্ছেন,চাকরি বাকরি কিছু একটা হোক। তারপর বিয়ে।
.
ওকে ফাইন, কিন্তু লজিক কী? যদি ছেলে বউ এর খাওয়া দাওয়াটাই একমাত্র ফ্যাক্ট হয়, তাহলে আপনারা অবশ্যই স্বীকার করবেন বাড়ির ৩/৪ জন সদস্যের রান্না করা খাবারে আর একজন এক্সট্রা থাকলে আনায়াসে হয়ে যায়। আর তাও যদি আপত্তি থাকে তাহলে নাহয় আপনার ছেলের খাবারের অংশ টুকু সে আর তার বউ ভাগা ভাগি করে খাবে ইনশাআল্লাহ। ছেলেবউ থাকবে স্বামীর ঘরেই, ঘুমোবে স্বামীর বিছানাতেই। কসমেটিক বা প্রাসংগিক কিছু খরচ তো আপনার মেয়ে থাকলে আপনিই করতেনই যথাসাধ্য।
.
আর আপনাকে তো সারাজীবন ছেলে বউ এর দায়িত্ব নিতে বলা হচ্ছেনা, কয়েকটা বছর, বড়জোর ২-৩ বছর। আল্লাহ এর সন্তুষ্টি এবং ছেলের ভালোর জন্য এটা কি খুব কষ্টসাধ্য?
.
যদি খাওয়া দাওয়া ফ্যাক্ট না হয়, ভাবেন যে ছেলের ক্যারিয়ারে এটা প্রতিবন্ধক, তাহলে জেনে রাখুন বিয়েটা ক্যারিয়ারে কোন প্রতিবন্ধক না। বরং সাপোর্টিভ। ছেলের শিক্ষাঙ্গনের উন্মুক্ত পরিবেশ, অবৈধ রিলেশনশিপের ব্যাপকতা ,অশ্লীলতা-বেহায়াপনা এগুলোই বরং ক্যারিয়ারের জন্য প্রতিবন্ধক, বিপজ্জনকও বটে।
.
ছাত্রবস্থায় বিয়ে করে ভালবাসার প্রিয় মানুষটি (স্ত্রী, বউ, জীবনসঙ্গিনী) আপনার সন্তানের কাছে থেকে ক্যারিয়ারের ব্যাপারে যখন উতসাহ দিবে, তখন সে পাবে একমুঠো পবিত্র ভালবাসার হৃদয়স্পর্শী উতসাহ, আর দায়িত্বশীলতা যখন ঘাড়ে চলে আসবে সে নিজে নিজেই ক্যারিয়ার গঠনে আরো উঠে পড়ে চেষ্টা করবে। বিয়ে করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা কোন প্রতিবন্ধকতাই নয়। বরং ভাল ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের বিশ্বস্ত সহযোগী।
.
হয়ত ভার্সিটি লাইফ শেষে এখন থেকে ২/৩ বছর পরে আপনার ছেলে বিয়ের সামর্থ্য লাভ করবে, কিন্তু এখন যদি আপনারা সাহায্য করেন তাহলে এই নশ্বর জীবনে কিন্তু তার 'মহামুল্যবান ২-৩ বছর নষ্ট হবে না, তার দ্বীনও অর্ধেক পূরন হবে, সে আপনাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ থাকবে। পরবর্তীতে তার সন্তান লাভ, আপনাদের দাদা দাদী হওয়া, নাতিপুতিদেরও বিয়ে শাদী ইত্যাদি সব বিষয় গুলোই ২-৩ বছর এগিয়ে গেল ইনশাআল্লাহ।
.
আর যেখানে রিজিকের ব্যাপারে আল্লাহ ওয়াদা দিয়েছেন তবুও আপনাদের মন খুত খুত করে, সেক্ষেত্রে আরেকটা আইডিয়া আছে, বিয়ের পর ছেলে থাকল তার জায়গায়, বউ তার জায়গায়। দুইজনই আগের মত যেমন নিজের বাপের টাকায় চলছিল চলুক। বউ তার বাপের বাড়িতে কিংবা তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।দুজনেই ব্যস্ত পড়ালেখা নিয়ে।
.
এইদিকে নিজেদের মাঝে চ্যাটিং, ফোনালাপ, পারস্পারিক যোগাযোগ, খোঁজ খবর রাখা, উভয়ে উভয়ের পরিবারের সাথে কানেক্টিং থাকা, বিভিন্ন বন্ধে দেখা' সাক্ষাৎ করা, এক সাথে ভ্রমণ, খাওয়া-দাওয়া করা, উপহার দেয়া, উদ্দীপনামূলক প্রতিযোগিতা, ঈদে বাসায় নিয়ে আসা, তার বাড়ীতে যাওয়া, সৎ পরামর্শ দেয়া, সুখ-দুঃখে অংশীদার হওয়া ইত্যাদি চলল লেখাপড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
.
তবে হ্যাঁ এই রকম সিদ্ধান্তে ছেলে-মেয়েকে অবশ্যই পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সেক্রিফাইসের মনোভাব ও অত্যধিক উচ্চাবিলাসী মনোভাব পরিহার করতে হবে দুই পরিবারেরই।
.
আর যদি এইসব কিছু্র কোনটাই কারন না হয়, নিছক সামাজিকতা রক্ষার দায় কিংবা মানুষ কী ভাববে সেটাি কারণ হয়, তাহলে প্রস্তুত থাকুন, আপনার সন্তান ফিতনায় পড়ুক, খারাপ কাজ করুক, অবৈধ যেকোন উপায়ে নিজের প্রয়োজন মেটাক, বা আপনাদের উপর তার মনে বিষন্নতা তৈরী হোক, আপনাদের ছেড়ে চলে যাক সে তো পাক্কা গুনাহগার হবে তবে এই গুনাহের শুরু করে দেওয়ার জন্য একটা অংশ নিতে আপনারাও প্রস্তুত থাকুন।
.
সে নিজেও জাহান্নামে তার জায়গা বানাবে আর আপনাদেরও টেনে নিয়ে যাবে।
..
তারপর আল্লাহ যেদিন আপনাদের পাকড়াও করবেন, প্রশ্ন করবেন, কিংবা ইহকালেই সন্তান রিলেটেড বড় কোন বিপদের সম্মুখীন হবেন, তখন আপনার কোন সমাজ আপনাকে রক্ষা করবে? আপনার হয়ে আল্লাহ তায়ালা কে উত্তর দেবার সাহস করবে? বিয়ের কথা বলার নির্লজ্জ্ব ভঙ্গিটা পাপ না,কিন্তু নির্লজ্জ্ব পথ তৈরি করে দেয়া, ঐ পথে হাটতে দেয়াটা পাপের।
.
'জন্ম - মানুষ কী ভাববে - মৃত্যু' — এইভাবেই জীবনটা পার করে দিয়েন না। আল্লাহ বুঝার তৌফিক দিন।
মহিউদ্দিন মুহাম্মদ